জীবন_দশা

Must Read

আপুরা, আসুন সতর্ক হই …

আপুরা, আসুন সতর্ক হই ... ১। রাতে একা বহুতল ভবনের লিফটে উঠার সময় যদি কোন অচেনা এবং সন্দেহজনক পুরুষের পাল্লায় পরেন তখন...

একজন ডাক্তারের গল্পঃ

একজন ডাক্তার বাংলাদেশে প্রাইভেট হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে কানাডায় গিয়ে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে সেলসম্যান হিসাবে যোগ দিলেন। স্টোরের মালিক জিজ্ঞেস করলেন-...

মানুষ-হ-মানুষ, অমানুষের-দল-মানুষ-হ

#মানুষ_হ_মানুষ   #অমানুষের_দল_মানুষ_হ আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় একটা ব্লেড দিয়ে আপনি সাধারণত কি কাজ করেন? আপনি হয়তো বলবেন "আমরা এটা...
মধ্যরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো, বিছানায় তাকিয়ে ডিম লাইটের আলোতে দেখি বউ পাশে নেই।। বালিশের নিচ থেকে মোবাইল বের করে দেখলাম রাত ২ টা ১৭ বাজে।। খুব বেশি অবাক হলাম না, রিতু সম্ভবত বাথরুমে গেছে।। আমি ওপাশ ফিরে নতুন করে ঘুমের প্রস্তুতি নিলাম।।
আবার, কিভাবে যেনো ঘুম ভেঙে গেলো, তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব কাটতেই ভাবলাম, সমস্যা কি রিতু এখনো বাথরুম থেকে আসছে না কেনো? মোবাইল হাতে নিয়ে সময় দেখে লাফ দিয়ে বিছানায় বসে পড়লাম, রাত ৩ টা ৫২ বাজে।। মানে কি, রিতু কই গেলো? আমি চোখ কচলে বিছানা থেকে উঠে আগে রুমের লাইট জ্বালালাম।। মনের ভিতরে অস্থির লাগছে খুব, রিতু আর আমি তো ১২ টার দিকে বিছানায় একসাথে ঘুমুতে আসলাম।। কিছুক্ষণ আলাপ-সালাপ করে কখন ঘুমিয়েছি জানি না, কিন্তু রিতুকে এখন দেখছি না, এর মানে কি!! আমাদের এই বাসা মাত্র দুই রুমের, রিতুর সাথে বিয়ে হয়েছে মাস খানেক হলো।। বিয়ের পর থেকে আমি আর রিতুই শুধু থাকি বাসায়।। আমি দ্রুত হেঁটে ড্রইং রুমের দিকে গেলাম, না কেউ নেই, অন্য রুমের দরজাও বাইরে থেকে লাগানো।। মেইন দরজার কাছে ছুটে গেলাম, পাশেই বাথরুম।। বাথরুমের কাছে যেতেই মনে হলো, ভিতর থেকে ঝর্না দিয়ে পানি পড়ার আওয়াজ পাচ্ছি, আমি বেশ আড়ষ্ট কণ্ঠে ডাকলাম- রিতু, এই রিতু, তুমি কি বাথরুমে?
 
ভিতর থেকে কোন শব্দ এলো না, সুইচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, বাথরুমের লাইট বন্ধ।। আবার বাথরুমের দরজা চাপানো, ধাক্কা দিলাম, দরজা খোলাই আছে।। দরজা ঠেলে দিয়েই আমি অন্য হাত দিয়ে লাইটের সুইচ চাপলাম, ভিতরে এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য।। দেখলাম রিতু ঝর্নার নিচে দেয়ালে হেলান দিয়ে মাথা নিচু করে ভিজতেছে।। আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে ঝর্না বন্ধ করে রিতুকে বললাম- এই মেয়ে তোমার সমস্যা কি? মাঝ রাতে গোসল করছো কেনো?

রিতু যে জামা পড়ে শুয়েছিলো, সেই জামাটাই গায়ে আছে।। ভিজে লেপ্টে গেছে, কেমন জুবুথুবু হয়ে মেয়েটা বসে আছে।। সে আমার প্রশ্নের কোন জবাব দিলো না।। এমনকি শরীরের ভঙ্গিতে ঝর্না বন্ধ করার কোন প্রতিবাদও জানালো না।। নির্বিকায় আগের মতই বসে রইলো।।
আমি বেশ চড়া গলায় বলে উঠলাম- এই রিতু, কি হইছে তোমার? কোন সমস্যা নাকি? কথা বলছো না কেন?
রিতু চট করে মাথা তুলে আমার দিকে তাকালো, কেমন যেনো ফ্যাকাসে শূণ্য দৃষ্টি।। চোখগুলো লাল টকটক করছে, মনে হচ্ছে এখুনি বুঝি চোখ বেয়ে রক্ত ঝরবে।। আমি ব্যাপারটা আর নিতে পারছিলাম না।। আবার বলে উঠলাম- আরে আজব তো, ফাইজলামী শুরু করছো নাকি? কথা বুঝো না, এত রাতে ভিজতেছো কেনো?
রিতু তবুও কিছু বলছে না, আমার কাছে সব কিছু অদ্ভুত লাগছে।। ইচ্ছে হচ্ছে রিতুর গায়ে ধাক্কা দিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করি, কিন্তু এখন নিজের হাত ভিজাতে মন চাচ্ছে না।।
রিতু আচমকা উঠে দাঁড়ালো, আমি রিতুর হুট করে দাঁড়ানো দেখে- চমকে একটু পিছিয়ে গেলাম।। এবার সে মাথা নিচু করে সোজা বাথরুম থেকে বেরিয়ে গেলো।। আমি অথর্বের মত দাঁড়িয়ে রইলাম, সমস্যা কি- কিছুই তো মাথায় ঢুকছে না!!

পরক্ষণেই বাথরুম থেকে বের হয়ে রিতুর পিছে পিছে যাচ্ছি আর বলছি- ঘরদোর ভিজিয়ে ফেললে তো, বাথরুম থেকে শরীর মুছে বের হও নাই কেন? পাগলামী শুরু করছো কেন, কি সমস্যা?
রিতু সোজা আমাদের শোবার ঘরে ঢুকলো, আমি ওর থেকে একটু পিছনে, সে রুমে ঢুকেই দরজা ধাক্কা দিয়ে লাগিয়ে দিলো।। আমি দরজার বাইরে থেমে রইলাম, দরজা ধাক্কা দিয়ে দেখলাম- রিতু সম্ভবত দরজা লক করে দিয়েছে।। মেজাজ পুরোই বিগড়ে গেলো, কথা নাই বার্তা নাই এসব কি শুরু করলো মেয়েটা।।

আমি দরজায় সজোরে আঘাত করে করে বললাম- অই তুমি কি পাগল হইছো, দরজা লাগাইলা কেন? দরজা খুলো বলছি, এক্ষুণি দরজা খুলো।।
ভিতর থেকে কোন জবাব আসছে না, এই মুহূর্তে খুব অসহায় লাগছে।। আমার যখন এমন অসহায় লাগে বা দুঃচিন্তা হয় তখন সিগারেটের নেশা চাপে।। কিন্তু বিয়ের পর থেকে বাসায় সিগারেট খাওয়া বন্ধ, রিতু জানে আমি সিগারেট ছেড়ে দিয়েছি কিন্তু সত্যি বলতে আগে দিনরাত মিলিয়ে ৫-৬ টা সিগারেট খেতাম।। এখন বিয়ের পর রাতে বাসায় থাকলে সিগারেট খাওয়া যাবে না, তাই ভেবে দিনের অন্য সময় আট নয়টা খাওয়া হয়ে যায়।। দরজার মধ্যে ধাক্কা দেয়া বন্ধ করলাম, ঠান্ডা মাথায় ভাবতে বসলাম।। আমার এখন কি করা উচিত, কিন্তু ভেবে কিছু পাচ্ছি না।।
খানিক বাদে দরজা খুলে দিলো রিতু, আমি রুমে ঢুকেই দেখলাম, সে ভেজা কাপড় চেঞ্জ করেছে।। আমি রুমে ঢুকতে ঢুকতে সে দরজা থেকে সরে বিছানায় গিয়ে বসলো।। আমি রিতুর কাছে এগিয়ে গেলাম, নরম গলায় বললাম- কি গো, কিছু বলো? কখন থেকে প্রশ্ন করেই যাচ্ছি কিছু বলো না কেন?
রিতু কি যেনো বিড়বিড় করছে, আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছি না।।

আমি আবার বললাম- এই মেয়ে কি হলো তোমার, বলো তো!!
রিতু ভাঙ্গা কণ্ঠে বললো- আমি ঘুমাবো রায়হান, পরে কথা বলবো।। আমার ঘুম পাচ্ছে।।
রিতুর মুখে অনেকক্ষণ পর কথা শুনে, অন্যরকম একটা শান্তি বয়ে গেলো মনের মধ্যে।। যাক্‌, ঘুমালে সে ঘুমালে ঘুমাক, এতক্ষণ প্রশ্ন করার পর কিছু একটা তো বলেছে, তাই বা কম কিসে!!
রিতু বিছানায় আস্তে করে শুয়ে পড়লো।। আমি খানিক দাঁড়িয়ে থেকে রিতুর পাশে গিয়ে শুয়ে পড়লাম।।
…………
আজ সারাদিন অফিসে কাজে কিছুতেই মন দিতে পারছি না।। গতরাতের রিতুর কান্ড কারখানাগুলো বার বার মাথার মধ্যে নাড়া দিচ্ছিলো।। ঝর্ণাতে ওভাবে ভেজার পর, রিতু বিছানায় শুয়েই দিব্যি কেমন ঘুমিয়ে গেলো, অথচ আমি পাশে শুয়ে সারাটা সময় শুধু ছটফট ছটফট করলাম।। কত কি চিন্তা করছিলাম, পরে একসময় ঘুমিয়ে গেলাম।। রিতু সকালে আমাকে ডেকে তুলে, নাস্তা খাইয়ে অফিসে পাঠিয়ে দিলো।। মনে হচ্ছিলো সব কিছু স্বাভাবিক আছে, রাতে কিছুই হয় নি।। আমার অফিস সকাল ১০ টা থেকে, কিন্তু আজ প্রায় দেড় ঘন্টা লেটে ঢুকেছি, বস আমার উপর তেঁতে আছেন।। বলে দিয়েছেন, বিকেলে আমাকে নিয়ে কোথায় যেনো যাবেন।। মানে অফিস ছয়টায় শেষ হলেও আমার বাসায় যেতে দেরি হবে।। আমি এর মধ্যে বার কয়েক রিতুকে কল দিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি, সব কিছু ঠিকঠাক আছে কিনা, এখন তো অযাচিত এক দুঃচিন্তা ঢুকে গেছে মাথায়।। অথচ বিয়ের পর থেকে কাল রাতে ঘুমানোর আগে অব্দি সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিলো।।
বিকাল পাঁচটার দিকে বস আমাকে নিয়ে অফিস থেকে বের হলেন, আমি শুধু উনাকে অনুসরণ করে যাচ্ছি।।

তেঁজগাও থেকে বসের গাড়িতে করে মহাখালি দিয়ে বের হয়ে উত্তরার দিকে যাচ্ছি।। ড্রাইভার জলিল গাড়ি চালক হিসেবে বেশ ভালো, তবে সে মনে হয় একটু ভীতু কিসিমের লোক, তাকে আমি কোনদিন জোরে গাড়ি চালাতে দেখি নি।। তবে, জলিল বেটার মধ্যে রসকস প্রচুর, মাঝে মাঝেই সে মজার মজার গল্প করে।। এদিকে আজ আমার মন মেজাজ ভালো নেই, রিতুকে নিয়ে চিন্তায় আছি, দুপুরের পর থেকে মেয়েটা ফোন ধরছে না।। ভাবলাম বসকে মুখ ফুটে বলি, বাসায় যাওয়া দরকার।। কিন্তু, বলি বলি করে আর বলাই হলো না।। এখন এই ব্যাটা কই নিয়ে যাচ্ছে আমাকে, কে জানে?

আমি আর বস গাড়ির পিছনে বসে আছি।। উনি তুলনামূলক ভাবে বেশ ইয়াং, বয়স ৩৫-৪০ এর মাঝামাঝি হবে।। গাড়ি বনানীর জ্যামে আটকা পড়ে আছে, জলিল হঠাৎ বললো- স্যার শুনেন, আমি যখন মালেশিয়াতে ছিলাম, কি এক কান্ড হইছিলো।।
বস নড়েচড়ে বসলেন- কি কান্ড জলিল মিয়া?
আমি অমনোযোগী শ্রোতার মত, অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে রাখলাম।।

জলিল বলে চলছে- আমি তো স্যার পাঁচ বছর মালেশিয়াতে ছিলাম, তহন শুরুতে যহন যাই, ড্রাইভার হিসাবেই যাই।। ট্যাক্সি চালাইতাম আর কি, পেনাং শহরে।। তহন স্যার একবার একটা বিরাট ক্ষ্যাপ পাই, দুইজন চাইনিজ মহিলা যাইবো কুয়ালালামপুর।। ওই পেনাং থিকা কুয়ালালামপুর স্যার অনেক দূরে, ধরেন তিনশো সাড়ে তিনশো কিলো হইবো।। আমি তো স্যার নতুন চালক, তবু সাহস কইরা দিলাম রওনা।। মাঝখানে স্যার নর্থ সাউথ হাইওয়েতে পুলিশ আমার গাড়ি আটকায়, এর কারণ শুনেন স্যার আপনি হাসতে হাসতে মরবেন।।
বস বেশ আনন্দিত কণ্ঠে বললো- কি কারণ বলো,বলো।।

আমি বিরক্তি নিয়ে শুনবো না, শুনবো না করেও জলিলের কথা শুনে যাচ্ছি।।
জলিল আবার বলা শুরু করলো- পুলিশ গাড়ি আটকাই আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি এত আস্তে গাড়ি চালাইতাছি কেন? হাইওয়েতে গাড়ি আস্তে চালাইলে নাকি সমস্যা, পিছন থিকা অন্য গাড়ি ধাক্কা দিবার পারে।। স্যার আমি মালেশিয়ার ভাষা দেশ থিকাই মেলাখানি শিখা গেছিলাম, তাই কথা বুঝতে অসুবিধা হয় নাই।।
আমি পুলিশরে তহন কইলাম, স্যার রাস্তার মাথায় এক জায়গায় লেখা আছে ২৫, তাই স্যার আমি খুব দেখে শুনে ২৫ এর মধ্যেই চালাইতাছি।। কিন্তু স্যার, অন্যরা তো ভাইঙ্গা চুইরা টানতাছে, তাগোরে ধরেন না কেন?? পুলিশ বেটা হাসে আর কয়, আরে মূর্খ অইডা হাইওয়ে নাম্বার, স্পিড লিমিট মার্ক না।। এই রোডে ৬০ থেকে ১০০ তে গাড়ি চালাইতে হবে।। তুই এত বোকা, যা তোকে মাফ করে দিলাম, কোন ফাইন করলাম না, কিন্তু এবার ঠিকমত স্পিডে গাড়ি চালাইস।। আমি তো স্যার মনে মনে সেই খুশি, পুলিশরে কইলাম- আইচ্ছা স্যার।। অনেক অনেক ধন্যবাদ স্যার।। পুলিশ বেটা এবার আমার গাড়ির পিছনে সিটে তাকাইয়া কয়, ওই তর পিছের যাত্রীরা অসুস্থ নাকি, কেমন জানি ডরে কাঁপতাছে, মনে হয় পুলিশ দেইখা ভয় পাইছে আর কি।। আমি কইলাম, না স্যার একটু আগে ২৮৬ নাম্বার হাইওয়ে পার হয়ে আইলাম তো, তাই আর কি।।

বস হো হো করে হেসে উঠলেন, আমারও যে মৃদু হাসি পেলো না, তা অস্বীকার করবো না।।
আমি এদিকে একটার পর একটা রিতুকে কল দিয়েই যাচ্ছি, কিন্তু ফোন ধরার কোন নাম গন্ধ নেই।। খুব দুঃচিন্তা হচ্ছে আমার, কাল রাত থেকে নতুন এই চিন্তা আমাকে পাগল করে দিচ্ছে।।
আমি ঝিম মেরে গাড়িতে বসে আছি, বস আড়চোখে আমাকে পর্যবেক্ষণ করছেন কিন্তু কিছু বলছেন না।। আমিও নিশ্চুপ হয়ে আছি, এই লোকটা আমাকে কই নিয়ে যায়, কে জানে?
গাড়ি উত্তরা থেকে আশকোনার দিকে যাচ্ছে, এবার আমি মুখ খুললাম- বস কই যাচ্ছি আমরা, আমার একটু আর্লি বাসায় যাওয়া দরকার!!

বস হাতের ঘড়িটা দেখে বললেন- মাত্র সাতটা বাজে, চিন্তা কইরেন না, আপনাকে একটু পরেই বিদায় দিয়ে দিবো।। জলিল আপনাকে বাসায় দিয়ে আসবে।।
আমি এই লোকটার উপর চরম বিরক্ত, যদিও সে আমাকে দৃশ্যমান অত্যাধিক পছন্দ করে- তবে অফিসে আসতে দেরী করলে এমন উদ্ভট শাস্তির ব্যবস্থা প্রায়শই করেন।। দেখা যাবে একটু পরে বললেন, আপনি নামুন এবং বাসায় চলে যান।। আজ এমন কিছু হলে আমি ব্যাটাকে সোজা খুন করবো।।
গাড়ি একটা বাসার গেটের সামনে থামলো, ড্রাইভার হর্ন বাজাচ্ছে কিছুক্ষণ পর ভিতর থেকে দারোয়ান এসে গেট খুলে দিলো।। গাড়ি নিয়ে সোজা গেটের ভিতর ঢুকে গেলো, জলিল।। আমি একটু অবাক হলাম, এটা আবার কার বাসা রে- বসের বাসা তো বনানী।। এখানে তাহলে কে থাকেন?
বস গাড়ি থেকে নামছেন, আমিও নামতে নামতে জিজ্ঞেস করলাম- এটা কার বাসা বস?
বস বেশ বিরক্তি নিয়ে বললেন- আপনার জানার প্রয়োজন নেই রায়হান, আপনি বাসায় চলে যান।। আর শুনেন অফিসে আসতে রোজ রোজ এত লেট করবেন না।।
আমি গাড়ি থেকে নেমে নির্বিকায় দাঁড়িয়ে রইলাম।। বস আর জলিল লিফটের দিকে যাচ্ছে, আমাকে বস বলে দিয়েছে- আমি যেনো গ্রাউন্ড ফ্লোরেই থাকি, জলিল উনাকে উপরে দিয়ে এসে আমাকে আমার বাসায় নামিয়ে দিবে।।

আমি নিচে পায়চারী করছি, দারোয়ান দুইজন আমার দিকে কুতকুত করে তাকিয়ে আছে।। নিজেদের মধ্যে কি যেনো আলাপ করছে, মনে হয় আমাকে নিয়েই কিছু বলছে।। আমি আবার রিতুকে কল দিলাম, এবারও ধরলো না।। ভাবতে পারছি না, দুপুর থেকে মেয়েটা কল ধরছে না, নিশ্চয় কোন ঝামেলা হয়েছে আবার।। এবার সত্যি চিন্তায় দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।।
আমি দারোয়ান দুইজনের দিকে এগিয়ে গেলাম, তারা আমাকে কাছে ঘেঁষতে দেখে কেমন যেনো চুপসে গেলো।।
আমি গিয়ে বললাম- ভাই, রেজা স্যারের কি কোন আত্মীয়ের বাসা এটা।।
একজন মুরব্বী মতন দারোয়ান জবাব দিলো- আত্মীয় মানে, স্যারের বউ থাহে এইহানে।।

আমি একটা বিষম খেলাম, বউ মানে।। কিসের বউ।। আমি দারোয়ানকে বিষ্মিত কন্ঠে বললাম- বউ মানে, কার বউ? রেজা স্যারের বউ এখানে থাকে মানে কি? রেজা স্যারের শ্বশুড় বাড়ি নাকি এটা।।
দারোয়ান জবাব দিলো- না আর কিছু জানি না, শুধু জানি স্যারের বউ এইহানে থাহে, স্যার মাঝে মধ্যে আসে।। ম্যাডাম অনেক সুন্দরী লম্বা ফর্সা, নায়িকাগো মতন।।
আমি এবার ঢোঁক গিললাম, অফিসের বেশ কয়েকটা পার্টিতে আমি রেজা স্যারের বউকে দেখছি।। উনি শ্যাম বর্ণের মাঝারি উচ্চতার মহিলা।। কোন কারণে উনার চেহারায় মনে হয় বয়সের ছাপও পড়ে গেছে কিন্তু দারোয়ান যেভাবে বললো, তাতে নিশ্চয় এ অন্য কোন মহিলার কথা বলছে।। আমি এখন এইসব নিয়ে ভাবতে চাচ্ছি না, রিতুর চিন্তাই মাথা থেকে যাচ্ছে না।।
গ্রামের সাধারণ ঘরের অসাধারণ মেয়ে এই রিতু।। দেখতে যেমন রূপবতী, তেমনি গুণবতী।। সত্যি আমার ফুপির চয়েজ আছে, এই বিয়েটা পারিবারিকভাবে আয়োজনের পুরো কৃতিত্ব আমার বড় ফুপিকে দিতে হবে।। মাঝে মাঝে লোকজন বোধকরি আমাকে হিংসা করে, এত সুন্দর বউ কিভাবে আমার কপালে জুটলো।।
জলিল নিচে নেমে এসেছে, এসেই আমাকে তাগাদা দেয়া শুরু করলো- চলেন স্যার আপনাকে বাসায় দিয়ে আসি।।
এবার আমি গাড়ির সামনে বসলাম, উদ্দেশ্য, জলিলের সাথে গল্প করতে করতে যাওয়া, আর এই বাসায় কে থাকে, কি বিষয়-আশয় যদি কোনভাবে জানা যায় আর কি!!
……………

গাড়ি নিয়ে একদম আমার বাসার গেটে যাওয়া যায় না, আমি গলির মুখেই নেমে পড়লাম।। এরমধ্যে গাড়িতে আসতে আসতে রিতুকে আরো বেশ কয়েকবার কল দিয়েছি, সেই একই কাহিনী ফোন ধরে না।। গাড়ি থেকে নেমে, জলিলকে বিদায় দিলাম, চাটুকার জলিল জিহ্বা বের করে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো।। আমি মানিব্যাগ থেকে ৫০ টাকার বের করে দিয়ে বললাম, চা খাইয়ো।। ক্ষুধার্ত কুকুরের মত জলিল সেই টাকা পকেটে পুরে নিলো।। আসার পথে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, বস অইটা কার বাসায় গেলো, বদ জলিল জবাব দেয়- ও অইটা স্যারের বোনের বাসা।। আমি জলিলের কথা শুনে, শুধু মাথা নেড়েছিলাম, আর বেশি ঘাঁটি নাই।। সময় হলে এমনিতেই সব সামনে চলে আসবে।।

দ্রুত পায়ে হেঁটে বাসায় ঢুকলাম, বিদ্যুৎ বেগে সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠছি।। আমাদের বাসাটা পাঁচতলায়, ধুর ধুর পাঁচতলায় মানুষ থাকে নাকি।। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে কলিংবেল চাপ দিলাম।। বেশ কয়েকবার কলিং চাপার পরেও, ভিতর থেকে কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছি না।। রাত বেশ হয়ে গেছে, ১০ টার উপরে।। সারাদিন আমার উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে, যতটা না জার্নিতে ক্লান্ত তার থেকে অনেক বেশি ক্লান্ত এই রিতুকে নিয়ে চিন্তা করে করে।। না খারাপ ব্যাপার তো, বাসায় কেউ নাই নাকি? বুঝলাম না, কলিং বেল বাজিয়েই চলছি, দরজা ধাক্কা দিচ্ছি, রিতু রিতু বলে ডাক দিচ্ছি অথচ কোন সাড়া শব্দ নেই।। মনে হচ্ছে আমি জনশূন্য কোন ঘরের দোরে দাঁড়িয়ে বৃথা সময় কাটাচ্ছি।। আমাদের পাশের ফ্লাট খালি পড়ে আছে, গতমাসে ভাড়া হয় নি, তাই কাউকে যে কিছু জিজ্ঞেস করবো সেই উপায়ও নেই।। এবার সত্যি মাথাটা টনটন করছে, শরীর ঘেমে টপটপ করে মেঝেতে পড়ছে, নিঃশ্বাস আমার ঘন হয়ে গেছে।। কি হচ্ছে ভিতরে, রিতুর কিছু হলো কিনা কে জানে? হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি এলো, আসলে এতক্ষণ চিন্তায় বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম, বাসার নবের চাবি আছে আমার কাছে।। কিন্তু বিপত্তি হলো, যদি ভিতর থেকে সিটকানী লাগানো থাকে তবে তো আর খোলা যাবে না।। পকেট থেকে চাবি বের করলাম, চাবি ঢুকানের আগে মুখ ফুটে অস্ফুট কণ্ঠে বিসমিল্লাহ্‌ বের হয়ে আসলো।। চাবি ঘুরিয়ে দরজা ধাক্কা দিতেই যখন দরজা খুলে গেলো, সারাদিন পর এই সামান্যতেই প্রাথমিক একটা আনন্দ বইয়ে গেলো মনের মধ্যে।। হন্তদন্ত হয়ে ভিতরে ঢুকলাম।। পায়ের জুতা খুলতে খুলতে রিতুকে ডেকে চলছি, কিন্তু কোন সাড়া শব্দ নেই।। মনে হচ্ছে, বাসায় সত্যিই কেউ নেই।। জুতা খুলে মোজা খোলার আর তর সইলো না, সোজা ভিতরের দিকে এগিয়ে গেলাম, সারা বাসা অন্ধকার, কোন লাইট জ্বালানো নেই।। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে আগে ড্রইং রুমের লাইট দিলাম, তারপর আমার শোবার ঘরের দিকে এগিয়ে গেলাম।। দরজা ভেড়ানো, ভিতরে অন্ধকার।। তবে আবছা আলোতে দেখলাম ফ্লোরে কেউ একজন সটান হয়ে শুয়ে আছে, এমন মনে হচ্ছে।। আমি দ্রুত রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিলাম, ভয়ে ছিটকে রুমের দরজার কাছ থেকে কয়েক পা পিছিয়ে গেলাম।। একটু নিজেকে সামলে নিয়ে আবার এগিয়ে আসলাম।। এই দৃশ্য না দেখলেই মনে হয় ভালো হতো, আমি বর্ণনা করে বোঝাতে পারবো না, আমার রিতুর গায়ে একটা সূতাও নাই, একদম নগ্ন হয়ে অজ্ঞানের মত মেঝেতে পড়ে আছে।। খুব অস্বাভাবিক ব্যাপার হলো, রিতুর ফর্সা দুধে আলতা গায়ের রঙ সেটা গায়েব, মেয়েটাকে কেমন নীলাভ লাগছে।। মনে হচ্ছে কেউ রিতুর সারা গায়ে নীল রঙ মেখে দিয়েছে-….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest News

আপুরা, আসুন সতর্ক হই …

আপুরা, আসুন সতর্ক হই ... ১। রাতে একা বহুতল ভবনের লিফটে উঠার সময় যদি কোন অচেনা এবং সন্দেহজনক পুরুষের পাল্লায় পরেন তখন...

More Articles Like This