ফিরে আসার গল্প

Must Read

আপুরা, আসুন সতর্ক হই …

আপুরা, আসুন সতর্ক হই ... ১। রাতে একা বহুতল ভবনের লিফটে উঠার সময় যদি কোন অচেনা এবং সন্দেহজনক পুরুষের পাল্লায় পরেন তখন...

একজন ডাক্তারের গল্পঃ

একজন ডাক্তার বাংলাদেশে প্রাইভেট হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে কানাডায় গিয়ে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে সেলসম্যান হিসাবে যোগ দিলেন। স্টোরের মালিক জিজ্ঞেস করলেন-...

মানুষ-হ-মানুষ, অমানুষের-দল-মানুষ-হ

#মানুষ_হ_মানুষ   #অমানুষের_দল_মানুষ_হ আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় একটা ব্লেড দিয়ে আপনি সাধারণত কি কাজ করেন? আপনি হয়তো বলবেন "আমরা এটা...

ফিরে আসার গল্প

পাঠঃ-১

Ssc তে ফেল করে বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রাই দশ বছর পর বাড়ি ফিরছি।এই দশ বছরে হয়তো আমার সকল বন্ধুরা বড় হয়ে গেছে। আমাকে দেখলে কী আব্বু আম্মু চিনতে পারবে এগুলো ভাবতে ভাবতে ব্যাস এসে গেছে আমার গ্রাম এ আমি ব্যাস থেকে নেমে এক নজর চারেদিকে দেখে নিলাম। তার সেই চিরচেনা রাস্তা ধরে বাসার উদ্দেশ্য হাটতে সুরু করলাম। রাস্তা দিয়ে হাটছি আর চারেদিকে দেখছি কী আজব দশ বছর আগে যেগুলো বাড়ি টিনের দেখেছিলাম এখন সব গুলো ইটের হয়ে গেছে।গ্রাম আগের থেকে অনেক পাল্টে গেলেও আমার বাড়ি চিনতে সমস্যা হয়নি।আমি এখন দাড়িয়ে আছি আমার বাড়ির সামনে কীন্তু ঢুকতে সাহস পাচ্ছি নাহ সাহস না পাওয়ার এক মাত্র কারন আমার হিটলার আব্বু এই আব্বুর ভয়ে আমি বাড়ি ছেরে পালায় ছিলাম। আব্বুর মুখ খুব কম চলে কীন্তু হাত বেশি চলে পুরো গ্রাম এ আব্বুর মতো রাগী মানুষ দুইটা পাওয়া যাবেনা । অনেকক্ষন দ্বারাই থাকার পর এক বুক সাহস নিয়ে দরজার কলিং বেল বাজালাম টিংটং টিং টং…..আবার চাপতে যাবো তখনি একটা পরীর মতো একটা মেয়ে দরজা খুলে দিলো।
 
মেয়েঃ-কে আপনি?
আমিঃ- আমি আপনার স্বপ্নের রাজকুমার যাকে আপনি প্রতিনিয়ত স্বপ্নে দেখেন।(মজা করে)
মেয়েঃ-এক ঘুসি মারবো একে বারে উরে গিয়ে বট গাছের মাথায় গিয়ে পরবেন (রেগে)অন্য কারো কাছে এগুলো ফালতু কথা সুনাবেন।
আমিঃ-sorry sorry ভুল হয়ে গেছে।আচ্ছা আপনি কে?
মেয়েঃ-আমি কে তা পরে বলবো আগে বলুন আপনি কে আর এখানে কী চাই।
আমিঃ-কী চাই মানে কী? আপনে কে হ্যাঁ আমার বাড়িতে আমাকে প্রশ্ন করছেন।
মেয়েঃ-ওই হ্যালো আপনার বাড়ি মানে কী হ্যা। পাবনা থেকে কবে ছারা পাইছেন।
আমিঃ-দূর আপনার সাতে কতা বলাই ভুল বলে আমি মেয়েটিকে ঠেলে ভিতরে ঢুকে পরলাম।আর আমার পিছন পিছন ওই মেয়েটি চেচাতে ঢুকে পরলো।মেয়েটির চেচামেচিতে সকলে এসে এক যাইগায় জরো হয়ে গেলো।সবাই প্রশ্ন করতে লাগলো আমি কে কেনো এসেছি।তখনি মেয়ে……
মেয়েঃ-দেখো না আব্বু কথা নাই বাত্রা নেই হুরমুর করে বাসায় ঢুকে পরলো।কাকে চাই কীছু বলছে না।
তখনি দেখলাম আম্মু রান্না ঘর থেকে বের হয়ে এলো আমি কারো কোনো কথার উত্তর না দিয়ে আম্মুকে গিয়ে জরিয়ে ধরলাম।
আমার কান্ড দেখে আম্মু সহ সকলে অবাক হয়ে গেছে।
আম্মুঃ-কে তুমি বাবা আমাকে এভাবে জরাই ধরেছো কেনো? আম্মুকে ছেরে দিয়ে
আমিঃ-আমি সুনেছি মায়েরা নাকী চোখ বন্ধ করে নিজের ছেলেকে চিনতে পারে। আজকে তুমি প্রমান করে দিলে আমাকে তুমি ভালোবাসো না।
আম্মুঃ-এইগুলো কথা তো সুধু সিহাব বলতো।সিহাব!
আমিঃ-অবশেষে চিনতে পারলা হুহ তাহলে।
আম্মুঃ-তুই আমার সিহাব আমার মুকে হাত দিয়ে।
আমিঃ-কোনো সন্দেহ আছে।
আম্মু আর কীছু না বলে আমাকে জরিয়ে ধরে কাঁদতে সুরু করলো। সবাই অবাক আমার দিকে অবাক চোখে দেখছে….. সবার মনে একই প্রশ্ন সত্যি কী আমি সিহাব নাহ কোনো বহুরূপী যে সিহাব এর ভেস বদল করে এসেছি….

ফিরে আসার গল্প

পার্ট:-২

সবার মনে একই প্রশ্ন সত্যি কী আমি সিহাব নাহ কোনো বহুরূপী যে সিহাব এর ভেস বদল করে এসেছি…. মা আমাকে ছেরে দিয়ে আমার মুখে হাত দিয়ে…
আম্মুঃ-এতো দিন কই ছিলি বাবা তুই। তোকে আমরা কত খুজেছি তুই কেমন আছিস।
আমিঃ-মা এতোগুলো প্রশ্ন এক সাথে করলে কী ভাবে উত্তর দিবো তখনি চাচা
চাচাঃ-ভাবি এ আমাদের সিহাব হতেই পারেনা।
আমি সহ সবাই চাচার দিকে তাকালো….
আমিঃ-চাচা তোমার কেনো মনে হলো আমি সিহাব নাহ…..
চাচাঃ-কারন সিহাব এর গায়ের রং শ্যামলা ছিলো । কীন্তু তোমার গায়ের রং ফরসা তার সাথে তুমি সিহাব এর তুলনায় অনেক লম্বা।একটা শ্যামলা ছেলে আগের তুলনায় কালো হতে পারে কীন্তু ফরসা হবে না।
 
আমিঃ-প্রথমতো আমার গায়ের রং শ্যামলা নাহ ফরসা কীন্তু আমি গ্রামে সারাক্ষণ রোদে থাকার কারনে আমাকে শ্যামলা দেখাতো আমি শহরে ছিলাম এতোদিন আর কিছু ফরসা হওয়ার ক্রীম ব্যাবহার করতাম তাই ফরসা হয়ছি আর দ্বিতীয় তো একটা মানুষের আটাশ বছর পর্যন্ত উচ্চতা বারে যদি সঠিক ভাবে এক্সেসাইজ করে।
চাচাঃ-বুঝলাম কীন্তু মাত্র দশ বছরে চেহারা এতোটা পরিবর্তন ক্যামনে আসে 🤔
আমিঃ-চাচা আপনি বুরো হয়ে গেছেন তাই আপনার চিন্তা ভাবনা বুরো হয়ে গেছে আমি যখন বাড়ি থেকে চলপ যাই তখন আমার বয়স ছিলো সতেরো বছর এই বয়সে ছেলেদের শরীর এর পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে এবং এখন আমার বয়স সাতাশ সঠিক সময়ে বিয়ে করলে আমার ছেলে মেয়েরা তুনাকে ছোট দাদু বলপ ডাকতো(হাসি দিয়ে) সবায় এক দৃষ্টিতে আমাদের কথা সুনছে।
চাচাঃ-আচ্ছা বুঝলাম তুমি যদি আমার সত্যি কারের ভাতিজা সিহাব হও তাহলে তুমি আমার কীছু গোপন কথা আছো যা তুমি আর যানি সুধু।
আমিঃ-(নিশ্চুপ)…..
 
চাচাঃ-কী হলো বলো হ্যা বলো যানতাম বলতে পারবানা কা বলতে যাবে তখনি আমি
আমিঃ-চাচা চাচা এত উত্তেজিত হওয়ার দরকার নাই আমি ভাবছিলাম কোন রহস্য টা বললে চাচি আপনাকে কেলাবে না (হাসি দিয়ে)
চাচাঃ-আমি ফালতু কথা সুনতে চাইনা কেনো যা বলতে বলছি তাই বল….
আমিঃ-আচ্ছা ঠিক আছে মনে আছে চাচা আমি ক্লাস 6 এ পরতে আমি স্কুল পালিয়ে অসময়ে জঙ্গল দিয়ে আাসার সময় তুমাকে রীনা আন্টি এর সাথে প্রেম আমাকে আর বলতে না দিয়ে চাচা এসে আমার মুখ চেপে ধরলো আর বলতে লাগলো
চাচাঃ-আরে এটাই আমাদের সিহাব কোনো সন্দেহ নায়(কেবলা মার্কা হাসি দিয়ে)
আমিঃ-নাহ চাচা আরো কথা গুলি বলি তাহলে কনফ্রাম হয়ে যাবে আমি সিহাব।(হাসি দিয়ে)
চাচাঃ-আরে আামার ভাতিজা বললাম তো তুমি সিহাব মাফ করে দে। ভাবি এটাই আমার সিহাব।তখনি চাচি
চাচিঃ-তুমি চুপ করো (ধমকের সুরে) সিহাব বাবা বল তো তুর চাচি রীনার সাথে কী করছিলো?
আমিঃ- চাচী
চাচাঃ-আরে কীছু না ও ছোট কী বলতে কী বলে ফেলেছে
চাচীঃ-সিহাব তুমি বলো
আমিঃ-নাহ চাচী চাচাকে আমি ওয়াদা দিছি।
চাচীঃ-আমি যা বুঝার বুঝে গেছি তাইতো বলি সারাদিন রীনার সাথে কী গল্প করে আজকে তুমার একদিন কী আমার একদিন।
চাচাঃ-আমার লক্ষ্যি বউ ভাতিজা তো মজা করছে
চাচীঃ-কী যেনো বলতে যাবে তখনি চুপ হয়ে মাথায় কাপর দিলো কাওকে দেখে আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি আব্বু আমার পিছনে দ্বারিয়ে আছে।আমার দিকে তাকিয়ে আছে আজকে আমি শেষ। যে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে আজকে মনে হয় আমাকে দশ বছর এর মার সুধে আসলে মারবে😰
আম্মুঃ-কখন আসলে তুমি এই দেখো আম্মুকে থামিয়ে দিয়ে…
আব্বুঃ-আহ….. ধমক দিয়ে…যখন থেকে ও তুমাদের প্রমান দিচ্ছিলো তখনি আমি বাড়িতে আসি বলেই আমার দিকে এগুতে লাগলো আব্বু আমার যত কাছে আসছে ততই আমার গলা সুকিয়ে যচ্ছে কারন আমার এখন ও মনে আছে আব্বুর মার এর কথা। আব্বু আমার কাছে এসে হাত তুলল আমি ভেবেচিলাম আব্বু আমাই চর মারবে কীন্তু আব্বু আমাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমান করে আমাকে জরিয়ে ধরে কেঁদে দিলো আমি সহ সবাই অবাক হয়ে গেছি কারন আমার বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে আমি আব্বুকে কখোনো কাদতে দেখিনি আমার ভাবনায় ছেদ ঘটিয়ে আব্বু বলতে সুরু করলো।
আব্বুঃ-এই দশ বছর পর আমাদের কথা তুর মনে পরলো। ফেল করেছিস তাই বলে বাসা ছেরে চলপ যাবি তুকে কত যাইগায় খুজেছি তুর সকল বন্ধুদের কাছে খবর নিয়েছি কীন্তু তুকে কোথায় ও খুজে পাইনি।
আমিঃ-আ আ আসলে আব্বু কথা শেষ না করতেই ঠ্যাস আব্বু আমার গালপ থাপ্পর মেরে
আব্বুঃ-আর একটা কথা বলবি না।

ফিরে আসার গল্প

পার্ট : -৩

আব্বুঃ-আর একটা কথা বলবিনা তুই…. তোকে দেখতে অনেক ক্লান্ত লাগছে মনে হয় অনেক জার্নি করেছিস…
গিয়ে ফ্রেস হয়ে নে তারাতারি।
সবাই আব্বুর দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আর আমি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে তখনি….
আব্বুঃ-সিহাব এর আম্মু এখানে দারিয়ে আছো কেনো তারাতারি গিয়ে সিহাব যা যা খাবার পছন্দ করে সব খাবার রান্না করো!
এতো দিন পর ছেলেটা বাড়ি ফিরেছে
…আব্বুর কথা শুনে আম্মু খুব আনন্দের সাথে বলল
আম্মুঃ-জ্বী আচ্ছা….. (ছোট বেলা থেকে আব্বু আম্মুকে কিছু বললে।
জ্বী আচ্ছা এই ভাবে খুব সংক্ষিপ্ত উত্তর দেয়!
কারন আব্বু অনেক রাগী)
আব্বুঃ-আরে আচ্ছা টাচ্ছা রাখো তারাতারি রান্না শুরু করো।
 
তখনি আব্বু আমার দিকে খেয়াল করে আমি সেই আগের যাইগাতে দ্বারিয়ে আছি দেখে
… তুই এখোনো এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো
তারা তারি ফ্রেশ হয়ে নে…..
আমিঃ-আচ্ছা বলে তারাতারি আমার রুমের দিকে পা বাড়ালাম।
আমি যে আগের রুমে থাকতাম সেই রুমে চলে গেলাম
রুমে প্রবেশ করে তো আমি অবাক omg এটা কার রুম…পুরো ঘরে মেয়েদের জিনিস পত্র….
আমি আবার ভুল করে অন্য রুমে চলে আসলাম না তো…
তা দেখার জন্য রুমের বাহিরে যাবো তখনি সেই মেয়েটা আমার রুমে প্রবেশ করলো।
মেয়েঃ-আসলে ভাইয়া আমি তোমাকে চিনতে পারিনাই sorrry….
আমিঃ- আসলে আমিও তোমাকে চিনতে পারছিনা
মেয়েঃ-ভাইয়া আমি সুহা
আমিঃ-কীহহহ তুমি কী আমার চাচাতো বোন সুহা?
মেয়েঃ-হ্যাঁ ভাইয়া তোমার তাহলে আমাকে মনে আছে
আমিঃ-আরে মনে থাকবে না মানে পিচ্চিকে কি ভুলা যায়….আমার তো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে সে দিনের পিচ্চিটা পরী হয়ে গেছে।
সুহাঃ-(আমার কথা সুনে বেশ লজ্যা পেয়েছে)
আমিঃ-আচ্ছা সুহা আমার জানা মতে এই ঘর আমার ছিলো কীন্তু এখানে সব মেয়েদের কাপর কেনো!
কে থাকে এই ঘরে?
সুহাঃ-ভাইয়া তুমি চলে যাওয়ার পর বড় আব্বু আমাকে এই রুমে থাকার জন্য বলেছে।
আমিঃ-কিহ্ তাহলে আমি কই থাকবো
সুহাঃ-কেনাে এই ঘরে….
আমিঃ-তাহলে তুই কই থাকবি?
সুহাঃ-আমাদের বাড়িতে অনেক রুম খালি আছে বুঝছো যে কোনো রুমে থাকবোনি….
এক মিনিট তুমি আমাকে তুই বল্লা কেনো?
আমিঃ-তুই আমার ছোট আর তোকে তো আমি আগে থেকে তুই করে ডাকি
সুহাঃ-নাহ তুমি আমাকে তুই করে বলবানা তুমি বলবা।
আমিঃ-এহহহ আইছে রে পিচ্চিকে নাকি তুমি বলতে হবে
সুহাঃ-ভাইয়া আমি মোটেও পিচ্চি নাহ  আমি এবার ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষে……….
আমিঃ-ওহ তাই নাকি।
আচ্ছা এখন আপনি একটু বাহিরে গেলে আমি একটু ফ্রেস হইতাম…
সুহাঃ-আচ্ছা আচ্ছা যাচ্ছি হুহ বলেই চলে গেলো….
আমি সময় নষ্ট না করে ফ্রেস হয়ে নিলাম… ফ্রেশ হয়ে সুয়ে থেকে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম আর পুরো ঘর দেখছিলাম কী অবস্থা আমার ঘর
এর চার দিকে সুধু মেয়েদের জিনিস আগে আমার ঘরে কেও ঢুকতেও পারতো নাহ
এইসব ভাবছিলাম তখনি আমার ভাবনা ছেদ ঘটিয়ে একটা ছেলে ঘরে প্রবেশ করলো।
কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকার পর বুঝতে পারলাম এটা আর কেও না।
এটা সাকিব আমার ছোট ভাই।
সাকিবঃ-ভাইয়া কেমন আছো বলেই আমার কাছে আসলো
আমিঃ-ভালো আছি তুই কেমন আছিস?
সাকিবঃ- ভাইয়া আমি ও অনেক ভালো আছি আমি আর সাকিব নানা রকম গল্প করতে লাগলাম তখনি সুহা ঘরে আসলো….
সুহাঃ-বড় আব্বু আপনাদের ডাকছে খাবার খাওয়ার জন্য।
বলেই চলে গেলো…
আমরা ও সময় নষ্ট না করে খাবার টেবিল এ চলে গেলাম।
গিয়ে দেখি চাচা আর আব্বু আগে থেকে ডাইনিং টেবিল এ বসে আছে…
খেয়াল করলাম চাচার মন খারাপ(হাহাহা যে চাচার যে রহস্য সবার সামনে বলেছি মন তো খারাপ হওয়ারি কথা।
চাচী তো আর ছেরে কথা বলবে না হিহিহি)
আমি আর সাকিব চেয়ার টেনে এক সাথে বসলাম….আম্মু আর চাচী খাবার পরিবেশন করছে তখনি আম্মুঃ- কীরে সুহা দাড়িয়ে আছিস কেনো এসে বস।
সুহাঃ-নাহ বড় আম্মু আমি তোমাদের সাথে খেয়ে নিবোনি পরে।
চাচীঃ-আগে তো সবার আগে এসে খাবার এর জন্য বসে থাকতি আজকে কী হলো।
সুহাঃ-কিছু হইনাই তোমরা খাবার দাও।
সবাই কে বলে চলে যাচ্ছিলো তখনি
আব্বুঃ-সুহা মামনি এখানে এসে বসো?
আব্বুর কথা সুনে সুহা আর কিছু না বলে আমার পাশের চেয়ারে বসলো।
আম্মু আর চাচী সবাইকে খাবার পরিবেশন করছে আর আমরা সবাই খাচ্ছি তখনি আব্বু বলল
আব্বুঃ-কালকে সকালে রেডি থাকিস স্কুলে যেতে হবে…
আমিঃ-স্কুলে কেনো আব্বু?
আব্বুঃ-কেনো আবার তোকে দশম শ্রেণীতে ভর্তি করিয়ে দিবো
ফেল করেছিস বলে কী পরা লেখা ছেরে দিবি।
আব্বুর এমন কথা শুনে আমি কাশতে লাগলাম।
আমাকে রীমি পানি দিলো পানি খেয়ে
আমিঃ-আব্বু কী বলছো আমি আবার স্কুলে ভর্তি হবো এই বয়সে।
আব্বুঃ-হ্যা হবি পড়ালেখা করতে কোন বয়স লাগে না
আর আমি চাইনা আমার ছেলেকে কেও মূর্খ বলুক।
আব্বুর কথা শুনে সবাই মুখ চেপে হাসতেছে….! ( এই যে পাঠক পাঠিকা রা আপনারা অন্তত আমার পক্ষে থাকিয়েন! আপনারা হাসিয়েন না!)
আমিঃ-আব্বু আমি তো মূর্খ নাহ।
এখান থেকে চলে যাওয়ার পর আমি যেখানে থাকতাম ওইখানে পরালেখা সম্পূর্ণ করে পুলিশ এর চাকরি নিয়েছি।
আমার কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে..
আব্বুঃ-তুই পুলিস হইছিস?
আমিঃ-হ্যা আব্বু
আব্বুঃ-কই আগে তো বললিনা (অবাক হয়ে)
আমিঃ-বলার আগেই তো তুমি ধমক দিয়ে ঘরে পাঠিয়ে দিলে।
সাকিবঃ-ভাইয়া তুমি কোন পদে আর কোন থানায়?
আমিঃ-এই এলাকাতেই পোষ্টিং নিছি আর আমি এসপি পদে।
সাকিবঃ-ভাবি ভাইয়ার তো চাকরী ও হয়ে গেছে তার মানে কিছুদিন পর তোমার আর ভাইয়ার বিয়ে ইয়া হুহ(সুহার দিকে তাকিয়ে)
সাকিব এর কথা সুনে সুহা আমার মতো কাসতে লাগলো আর সাকিব জোরে জোরে হেসেই চলেছে।
আমি সুহাকে পানি এগিয়ে দিলাম আর ও এক নিস্বাস সব পানি খেয়ে নিল

ফিরে আসার গল্প

পার্ট : - ৪

আমি কিছু বুজতে পারলাম না, সাকিব সুহাকে ভাবি ডাকলো কেনো? আমি ভাবলাম হয়তো মজা করে বলতেছে, তাই আর কিছু বলিনি 
পরের দিন সকাল সাড়ে ৬ টা বাজে হয়তো হঠাৎ আমার গায়ের উপর থেকে চাদর টা কে জেনো টান দিয়ে নিয়ে গেলো, আমি কিছু না বুজতে পেরে ঘুমের ঘোরে বলতে লাগলাম কে কে? 
তখন মেয়ের গলার আওয়াজ পেলাম, সুহা বললো ভাইয়া আমি, তুমি কি ভয় পেয়েছো?
আমি ইয়ে না মানে হে
সুহাঃ বুজেছি তুমি ভয় পেয়েছো। তুমি না পুলিশের এসপি? এতো ভীতু আমি তো জানতাম না আচ্ছা ভাইয়া উঠো আমরা এক জায়গায় যাবো।
আমি বললাম এতো সকাল সকাল কোই যাবা?যাও আমি এখন পারবো না,গিয়ে ঘুমাও!
সুহাঃ আসো না ভাইয়া, plzzzz
আমিঃ ওকে ঠিক আছে চলো, কিন্তু এতো সকাল সকাল কোথায় যাবা সেটা তো বলো?
সুহাঃ গিয়ে দেখবা কোথায় যায়।এখন চলতো
আমি আর সুহা হাটতে লাগলাম ১৫ মিনিট পরে একটা পাহাড়ের কাছে গিয়ে উঠলাম সেখানে উঠে দেখি সকাল বেলা টা যে এতো সুন্দর তা জানতাম-ই না!সকাল বেলার সূর্য উদয় এর দৃশ্য সত্যি-ই মনোমুগ্ধকর!
সুহাঃ ভাইয়া এবার বলো তোমার কেমন লাগছে?
আমিঃ অসাধারণ, তুমি কি প্রতিদিন এখানে আসো নাকি? জায়গাটা কিন্তু অনেক সুন্দর, আমার সত্যিই খুব ভালো লাগছে, এটা শরীর সুস্থ থাকার জন্য অনেক সাহায্য করে,
সুহাঃ যাক তাহলে তোমার ঘুম নষ্ট করা বিফলে যায়নি,আমি এখানে প্রতিদিন আসি না যখন আমার অনেক মন খারাপ থাকে তখন আসি, কিন্তু আজ মন খারাপ নেই বরং অনেক খুশি আছি। আজ এই সকাল টা আমার জন্য খুবই স্পেশাল ❤️
আমিঃ কেনো? আজ কেনো এতো স্পেশাল? বিয়ে ঠিক হয়েছে নাকি? (মজা করে)
সুহাঃ (রেগে) বিয়ে কেনো ঠিক হবে, ওইটা তো আরো ৫ বছর আগে থেকে ঠিক হয়ে আছে। এখনো শুধু বিয়ে করার অপেক্ষা কিন্ত জানি না সে আমাকে পচন্দ করবে কিনা?
আমিঃ কেনো পছন্দ করবে না?, তুমি দেখতে তো পরির মতো যদিও আমি একটু বেশি বলছি, পরি না হলেও মোটামুটি সুন্দর ই আছো, কিন্তু ৫ বছর আগে বিয়ে যেহেতু ঠিক হয়ে আছে তাহলে কেন সে পছন্দ
করবেনা? তোমাকে দেখেই তো বিয়ে ঠিক হয়েছে তাই না🤔?
সুহাঃ না ভাইয়া বিয়ে ঠিক হয়ে আছে সত্যি কিন্তু ছেলেটা জানে না তার মা-বাবা আমার বািাকে বলে রেখেছে যেনো আমার আর ওই ছেলেটার বিয়ে হয়। আমার বাবাও খুব রাজি❤️
আমিঃ তো আর কি? তাহলে তো কোনো সমস্যা নাই, সে রাজি না হলে আমি ওরে জেলে ডুকায় দিমু তুমি চিন্তা করো না,
সুহাঃ তুমি ই তো মুল সমস্যার কারন
আমিঃ কি বল্লে? আমি বুজি নি
সুহাঃ কিছুনা, আচ্চা ভাইয়া তুমি কারো সাথে প্রেম করেছো, বা এর আগে কখোনো করেছো?
আমিঃ না না কখনোই না,সুযোগ ই পায়নি, মেয়েরা আমার দিকেই তো তাকায় না, মেয়ে পটামু কেমনে?
সুহাঃ তাহলে তো আমার আর কোনো সমস্যা নাই, আমার লাইন ক্লিয়ার, এসপির বউ হমু তার পর এসপি রে ঘরে পিটামু,
আমিঃ তা হবেনা, কারন তোমার তো জামাই আছে যদিও ছেলেটা অনেক লাকি যে তোমার মতো এতো পরির মতো মেয়ে পাবে, যদি জানতাম তুমি এতো সুন্দুরী মেয়ে হবে তা হলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে বাবাকে বলে রাখতাম যেনো তোমাকে আমার জন্য রেখে দেয় 
সুহাঃ তুমি চাইলে আমি তাকে ছেড়ে তোমার কাছে ফিরে আসবো,
আমিঃ না লাগবে না, আচ্ছা চলো, আমার পুলিশ স্টেশন যেতে হবে, আজ এইখানে আমার প্রথম দিন, তাই তারাতাড়ি যেতে হবে,
সুহাঃ চলো ভাইয়া তোমার সাথে কথা বলতে বলতে কখন যে এতো সময় পেরিয়ে গেলো বুজতেই পারিনি!
সুহার সাথে এতো সুন্দর একটা সময় কাটাতে পেরে খুবই ভালো লাগছে কিন্তু তাকে ভালো ধন্যবাদও বলিনি। এর পরে আমি পুলিশ স্টেশন গেলাম সেখান থেকে ফিরে আসলাম রাতে।
রাতের খাবার খাওয়ার জন্য আমার মা ডাক দিলো
সবাই মিলে বসে খেতে বসলাম। সুহা আমার মাকে বললো আন্টি এদিকে দেন আমি সব খাবার সবাইকে বেড়ে দিচ্ছি,
মাঃ কিরে সুহা এতো দিন এই বাড়িতে আছিস কিন্তু কোনো দিন আমাকেও ভেড়ে দিলিনা খাবার কিন্তু আজ চাঁদ টা কোন দিক থেকে উঠেছে? আমার ছেলেটা আসার পর তুই এমন হয়ে গেলি বুজলাম না।
সুহা কিছু না বলে আমার দিকে লজ্জা পেয়ে মায়ার দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঘরের ভিতরে চলে গেলো।
আমি কিছু বললাম।
আব্বুঃ আচ্চা সিহাব তোকে একটা কথা বলার ছিলো কিন্তু কিভাবে যে বলবো বুজতে পারছি না , তুই তো এতোদিন বাড়িতে ছিলি না তাই অনেক কিছুই জানিস না😪
আমিঃ বলো সমস্যা নেই? কেন কি হয়েছে?
বাবাঃ শুনো বাবা তুমি যাওয়ার পর কিছু বছর পরে তোমার আম্মার একটা অসুখ হয় আর তাতে ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়। আমি ৫ লাখ টাকা তখন দিতে পেরেছি কিন্তু ১০ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলাম, এখন পর্যন্ত ৫ লাখ টাকা শোধ করেছি কিন্তু এখন আমার কাছে তেমন টাকা নেই এখন তুই যদি কোনো ব্যবস্থা করতে পারিস?
এটা শুনে আমি খাবার টেবিল থেকে উঠে আমার রুমে চলে গেলাম
আব্বুঃ (আম্মুর দিকে তাকিয়ে) হয়তো এখন এই কথাটা বলা আমার উচিৎ হয়নি🥺 মা কিছু না বলে আব্বুকে খাবার দিলো।

ফিরে আসার গল্প

পার্ট : - ৫

আব্বুঃ (আম্মুর দিকে তাকিয়ে) হয়তো এখন এই কথাটা বলা আমার উচিৎ হয়নি🥺 মা কিছু না বলে আব্বুকে খাবার দিলো।
একটু পর আমি রুম থেকে ১ টা ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে আব্বুর হাতে দিলাম! আর বল্লাম!
আব্বু এখানে পূরো ৫ লাখ টাকা আছে!
তোমরা যাদের কাছ থেকে টাকা আনছিলে! তাদের কে এই ৫ লাখ টাকা আপাতত দাও! বাকিটা আমি কয়েক দিনের মধ্যে দিয়ে দিবো!
তখন আব্বু আমাকে জরিয়ে ধরে শুধু কান্নাই করতে থাকলো! আমিও আব্বুর সাথে অনেকক্ষন কান্না করলাম!
একটু পর আব্বু আমাকে ছাড়িয়ে বল্লেন!
আব্বুঃ- সিহাব বাবা তুই আমার আরেক টা কথা রাখবি?
আমিঃ- সেখানে আবার অনুমতি নেওয়ার কি আছে বলো! আমি রাখবো!
আব্বু: বাবা তুই কি কাওকে পছন্দ করিস!
আমি: না আব্বু!
আব্বু: ঠিক আছে। কালকে রেডি থাকিস! এই বলে আব্বু চলে গেলো!
আর এদিকে আমার মনের মধ্যে হাজারো গোরপাক খাচ্ছে! কারণ আমি সুহা একটু পছন্দ মানে ভালোবেসে ফেলেছি!
কিন্তু আব্বু কে বলতে পারি নাই! যদি আব্বু রাগ করে ফেলে!
ঘুম আসতেছে না! এসব ভাবতে ভাবতে! একটা পরিচিত মেয়ের কন্ঠে!
সুহা: আসতে পারি!
আমি: হুম আসো!
সুহা: ভাইয়া কালকে তোমার বিয়ে! তুমি কি জানো!
আমি: কই নাতো! আব্বু শুধু বল্লো! কালকের জন্য রেডি থাকিস!
সুহা: হুম কালকে তোমার বিয়ে! আমি জানি! কিন্তু ভাইয়া একটা কথা বলবো!
আমি: হুম বলো!
সুহা: ভাইয়া আমি তোমাকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি! কিন্তু তুমি কালকে অন্য কারো হয়ে যাবে! ভাইয়া আমি মানতে পারবো না!
আমি…………….
এদিকে সুহা এই কথা টা বলে শুধু কান্না করেই যাচ্ছে!
আমি: সুহা যাও তুমি এখন তোমার রুমে যাও!
সুহা: না আমি আজকে তোমার সাথেই ঘুমাবো! যাকে নিয়ে এতটা বছর স্বপ্ন দেখে আসছি তার সাথে কি একটা রাত ঘুমানো যাবে না! শুধু তোমার বুকে একটু জায়গা দিয়ো!
আমি কিছুই বলতে পারলাম না!
আমারো চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পরছে!
হঠাৎ করে সুহা আমার বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে পরলো!
আর এদিকে আমার মন খুবি খারাপ লাগতেছে! কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না!
মনে হচ্ছে প্রিয় মানুষ টাকে কি হারিয়ে ফেলবো নাকি!
এসব ভাবছি আর চোখ দিয়ে পানি পরছে!
সকাল হতেই দেখতে পাচ্ছি! আমাদের বাড়িটা অনেক সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে!
আর এ দিকে সুহা তার রুমে শুধু কান্নাই করতেছে!
আমি তার রুমে তিন চার বার ঢুকতে গিয়েও ডুকলাম না!
আর এদিকে দুই তিন টা মাইক্রো বাস চলে এসেছে! আমরা নাকি এই গাড়িতে করে! মেয়ের বাড়িতে যাবো!
আমি মেয়েকেও দেখিনি! সে কেমন! কি তার নাম!
সবার মুখে শুনতেছি! সিহাব ভাইয়ের বিয়ে সিহাব ভাইয়ের বিয়ে!
আমার মনে হচ্ছে আমার প্রিয় মানুষ টাকে কি হাড়িয়ে ফেলছি নাকি!
একটু পর আমার আম্মু এসে! আমাকে একটা পাঞ্জাবি ধরিয়ে দিয়ে বল্লো! গোসল করে এটা পরে আসো! যাও!
তখন গোসল করে! পাঞ্জাবি টা পরে রেডি হলাম!
আব্বু আম্মু সবাই আসছে! এখন আমরা রওনা দিবো!
কিন্তু সুহা কে দেখতে পাচ্ছি না!
মন খারাপ নিয়ে! গাড়ির উদ্দেশ্য ঘর থেকে বের হবো!
এমন সময় সুহার রুম থেকে একটা আওয়াজ আসলো!
ভালো থেকো প্রিয়ো………………

ফিরে আসার গল্প

শেষ পার্ট : - ৬

মন খারাপ নিয়ে! গাড়ির উদ্দেশ্য ঘর থেকে বের হবো!
এমন সময় সুহার রুম থেকে একটা আওয়াজ আসলো!
ভালো থেকো প্রিয়ো………………
সবাই আমরা সুহার রুমে গেলাম!
রুমে ডুকেই দেখতে পেলাম! সুহা একটা ছুরি দিয়ে ওর পেটে কয়েক টা গুতা দিয়েছে!
এটা দেখেই আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো!
আর এদিকে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর সুহাকে দেখি আমার বুকে কত সুন্দর করে! জায়গা করে নিয়েছে!
দেখতে খুব মায়াবি লাগছে! রাতের চাঁদের আলো টা ওর মুখে পরছে! কি যে সুন্দর লাগছে!
মনটা কে শক্ত করে প্রতিগ্যা করলাম!
সুহাকে আমি ভালোবেসে ফেলছি! সুহা কে ছাড়া আমি আর কাওকে বিয়ে করবো না!
এটা কালকে সকালে ঘুম থেকে উঠেই আব্বু কে বলবো!
আর এদিকে সুহা কত আরাম করে ঘুমাচ্ছে!
আমিও সুহা কে জরিয়ে ধরে! ওর কপালে কয়েক টা চূমু একে দিলাম! আর ঘুমিয়ে পড়লাম!
পরদিন সকাল হতেই…
বাড়ি সাজানো দেখছি! কি যে সুন্দর লাগছে বাড়ি টা!
তার থেকে বেশি সুন্দর হবে! যদি এই বিয়ে আমার আর সুহার সাথে হতো!
সকালে নাস্তা করতে বসলাম! সবাই এক সাথে!
তখন আব্বু কে আমি বল্লাম!
আমি: আব্বু আমি একটা কথা বলবো!
আব্বু: হুম বল…..
আমি: আব্বু আমি আর সুহা দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসি!
আমরা একজন আরেকজনকে ছাড়া থাকতে পারবো না!
আব্বু তুমি আমার এই বিয়েটা সুহার সাথেই দাও প্লিজ!
আব্বু একটু রেগে গিয়ে বল্লেন!
আব্বু: না এটা কখনি হবে না! আমি মেয়ের বাবাকে ৫ বছর আগে কথা দিয়ে রেখেছি ওকে তোর সাথেই বিয়ে দিবো!
এই কথা শুনেই! আমি খাওয়ার টেবিল থেকে উঠে। সোজা চলে গেলাম আমার রুমে!
মনে হচ্ছে আজকে মরে যাই! এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম!
আম্মু র ডাকে ঘুম ভাঙলো!
আম্মু: এই সিহাব উঠ! কনে পক্ষের সবাই চলে আসছে!
আম্মুর কথা শুনে! তাড়াতাড়ি উঠলাম! ফ্রেশ হয়ে! পাঞ্জাবি পরে নিচে নামলাম!
গিয়ে দেখি!
সব কিছুর আয়োজন হয়ে গেলো! কাজী সাহেব আর মেয়ে বসে আছে এখন শুধু আমার অপেক্ষা!
আমি নিচে যাচ্ছি আর মনে মনে সুহা কে খুজতে লাগলাম! কিন্তু কোথাও সুহা কে দেখতে পাচ্ছি না!
সবকিছু হয়ে গেলো! আর বিয়েটাও ধুমধামের মধ্যেই হয়ে গেলো!
এখন আমি বাহিরে বসে আছি! আর ওদিকে আমার রুমে একটা অচেনা মেয়ে বসে আছে!
যাকে আমি চিনি না!
একটু পর রুমে ঢুকলাম! ডুকতেই
সেই অচেনা মেয়েটা ঘোমটা তো এমনিই বড় ছিলো! আমি ডুকার সাথে সাথে আরো বড় করে! আমার কাছে এসে সালাম করতে লাগলো!
আমি তাকে উঠিয়ে! তার ঘোমটা টা একটু সরাতেই সেই মেয়ে টা ইয়া বড়ড়ড়ড়ড়ড়! চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে!
কিন্তু আমি মেয়েকে ভয় পাওয়ার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছি! কারণ সেই মেয়ে টা আমার চাচাতো বোন সুহা!
তখন আমি কোন কথা না বলেই তাকে খুব শক্ত করে জরিয়ে ধরলাম!
একটু পর তাকে ছাড়িয়ে আমরা খাটের উপর বসলাম!
আমি: তুমি এখানে কি ভাবে আসলে! তুমি তো কালকে রাতেও বল্লে! যে আমার অন্য একটা মেয়ের সাথে বিয়ে হবে!
সুহা: এসব সব আমি আর বড় আব্বু মানে তোমার আব্বু প্লান করে! করেছি! দেখছি তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো কি না!
আমি: ও তার মানে সব তুমি জানতে!
সুহা: হু জানতাম!
আমি: omg এর শাস্তি তোমাকে দিবো আজ রাতেই দিবো!
(ভাইজান আর আপু মনিরা! আমার টাইমলাইন এ কিন্তু একটা গল্প আছে! (অপরাধ )
সুহা: কি শাস্তি দিবে!
এটা বলতেই আমি সুহার ঠোট গুলো আমার দখলে নিয়ে নিলাম!
এইযে আর কত দেখবেন ভাই! এখন জান! আমাদের কিছু করতে দেন ভাই!!
আজ আমাদের বিয়ের ৫ বছর পূর্ন হয়ে গেলো! আমাদের একটা ৩ বছরের মেয়ে বাবু আছে! মাশাআল্লাহ 💖 খুব সুন্দর! নাম রেখেছি মোসা: সিমু!
কিন্তু ওর মায়ের সাথে আমাকে দেখতেই পারে না! এখান দিয়ে একটু খারাপ লাগে! ওর আম্মুর সাথে আমাকে দেখলেই হইছে!
মনে হয় যেনো! ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ লেগে গেছে!
আর আমার মেয়ে টা সব সময় আমার কাছেই থাকে! যতক্ষন বাসায় থাকবো! আমার সাথেই থাকবে!
সমাপ্ত
আমাদের সমাজ টা এমন! ১০০% মেয়েদের মধ্যে ৯৭% মেয়েরা হয় বাবার বক্ত! কিন্তু এমন কিছু বাবা আছে! তারা যদি জানতে পারে যে তার একটা মেয়ে বাবু হবে!
এমন কি বিয়ের আগে ৭.৮ বছর প্রেম করে বিয়ে করে! কিন্তু সেই সংসার টা ভেঙ্গে যায় শুধু একটা মেয়ে হবে বলে!
আরে ভাই ২০২০ শালে একটা মেয়ে যে তার বংশে বাত্বি জলাইতে পারবে না! এটা কোন কথা!
আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী টাও কিন্তু মেয়ে!
তাই আমার সকল বাবার কাছে একটা রিকোয়েস্ট!
মেয়ে হলে! রাগ করবেন না! কারণ আপনার উপরে আল্লাহ খুশি হয়ে আপনার ঘরে একটা জান্নাত পাঠিয়েছেন!

লেখক ঃ– এমরান হোসাইন রনি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest News

আপুরা, আসুন সতর্ক হই …

আপুরা, আসুন সতর্ক হই ... ১। রাতে একা বহুতল ভবনের লিফটে উঠার সময় যদি কোন অচেনা এবং সন্দেহজনক পুরুষের পাল্লায় পরেন তখন...

More Articles Like This